দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস (হার্ডকভার) - সোহেল রানা | the kingdom of outsiders

দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস
দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস

দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস (হার্ডকভার)
লেখক : সোহেল রানা
প্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
বিষয় : ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য

আরো পড়ুন-

দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস: ইতিহাসের অন্তরালে থাকা এক সাম্রাজ্যের কথা

বইয়ের পরিচিতি
তরুণ সাংবাদিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক সোহেল রানার লেখা "দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস" বইটি প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার সুপরিচিত প্রকাশনী গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স থেকে। হার্ডকভার সংস্করণে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি মূলত রাজনৈতিক ইতিহাস ও ইসলামি ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব-রাজনীতির এক জটিল অধ্যায়কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি প্রায় আড়াই বছরের গবেষণা ও পরিশ্রমের ফসল, যেখানে তিনি বিগত দেড়শো বছরের মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতির একটি বিশেষ ধারাকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন।

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
বইটির শিরোনাম "কিংডম অব আউটসাইডারস" বা "বহিরাগতদের রাজ্য" এক ধরনের প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। লেখক এখানে এমন একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও তাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কাহিনি বর্ণনা করেছেন, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে "বহিরাগত" হিসেবে বসবাস করেও ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।

বইয়ে যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ আছে, তার মধ্যে রয়েছে—আধুনিক ইউরোপে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও পুঁজিবাজারের উদ্ভবের পেছনের ইতিহাস, উনিশ শতকের শেষভাগে রাশিয়ায় নিপীড়নের মুখে পড়া একটি জনগোষ্ঠীর ফিলিস্তিনমুখী অভিবাসন, এবং বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকে ইউরোপজুড়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিবেশ। এছাড়া বইটিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিচার
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা পরিবার (যেমন রথসচাইল্ড পরিবার) বিশ্বব্যাপী রাজনীতি ও অর্থনীতি "নিয়ন্ত্রণ" করে থাকে, এই ধরনের বর্ণনা দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিতর্কিত এবং ব্যাপকভাবে সমালোচিত একটি বিষয়। পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশ এই ধরনের দাবিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন, কারণ এগুলোর অনেকাংশই যাচাইযোগ্য প্রামাণ্য দলিলের বদলে জনশ্রুতি বা একপেশে ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাই পাঠক হিসেবে এই ধরনের গ্রন্থ পড়ার সময় লেখকের বর্ণনাকে একমাত্র সত্য হিসেবে না নিয়ে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সূত্র মিলিয়ে যাচাই করে নেওয়াটাই বিচক্ষণতার পরিচয়। ইতিহাস চর্চায় বহুমাত্রিকতা বজায় রাখা এবং একটিমাত্র জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক সমস্যার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকা—উভয়ই সুস্থ পাঠচর্চার অংশ।

লেখক পরিচিতি
সোহেল রানা মূলত সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, সমাজ ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করে আসছেন। "দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস" তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। একজন তরুণ লেখক হিসেবে এত জটিল ও বিস্তৃত একটি বিষয়ে হাত দেওয়া নিঃসন্দেহে সাহসী প্রচেষ্টা, এবং বইটি প্রকাশের পর পাঠকমহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বিষয়শ্রেণি হিসেবে বইটিকে ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আওতায় রাখা হলেও, এর মূল আলোচ্য বিষয় মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ইতিহাস। মুসলিম বিশ্বের পাঠকদের কাছে এই বইয়ের আবেদনের একটি বড় কারণ হলো—গত দেড়শো বছরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্ন, উপনিবেশবাদী শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ—এসব বিষয় মুসলিম উম্মাহর সাম্প্রতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রেক্ষাপট থেকেই লেখক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট ধারাকে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন, যা মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বোঝার একটি সহায়ক দৃষ্টিকোণ হতে পারে বলে প্রকাশক দাবি করেছেন।

প্রাপ্তিস্থান
বইটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন বুকশপ যেমন রকমারি ডটকম, বইবাজার ডটকম, বইপাঠাই ডটকম, পূর্বাশা ডটকমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রকাশনা উপলক্ষে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও এটি পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

উপসংহার
"দ্য কিংডম অব আউটসাইডারস" এমন একটি গ্রন্থ, যা ইতিহাসের একটি জটিল ও স্পর্শকাতর অধ্যায়কে সহজবোধ্য ভাষায় সাধারণ পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও ইতিহাসের এই আন্তঃসংযোগ যাঁরা জানতে আগ্রহী, তাঁদের কাছে বইটি একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে যেকোনো ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক গ্রন্থের মতোই, এই বইয়ের বক্তব্যকেও একাধিক সূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে যাচাই করে নেওয়া পাঠকের জন্য অধিক ফলপ্রসূ হবে। শেষ পর্যন্ত, ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা নিহিত থাকে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নেওয়ার মধ্যেই, একপেশে বর্ণনার মধ্যে নয়।



Post a Comment

أحدث أقدم