![]() |
| দ্য ফিউচার অব জিওগ্রাফি |
দ্য ফিউচার অব জিওগ্রাফি
লেখক : টিম মার্শাল
প্রকাশনী : ইউনিভার্স আফ্রাঈন
বিষয় : সাধারণ জ্ঞান
আরো পড়ুন-
টিম মার্শালের “দ্য ফিউচার অব জিওগ্রাফি” বইটা বের হয়েছে ২০২৩ সালে। মার্শাল আসলে একজন ঘুরে-বেড়ানো সাংবাদিক, শুধু রিপোর্টার নন, পররাষ্ট্র বিষয়ে দারুণ বিশেষজ্ঞও। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের কাজ করেছেন, স্কাই নিউজের কূটনৈতিক সম্পাদক ছিলেন, তার আগে BBC আর LBC/IRN রেডিওতে। চল্লিশটা দেশ ঘুরে রিপোর্টিং করেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া – এসব অঞ্চলের খবর এনে দিয়েছিলেন। তাঁর আগের দুই বই “Prisoners of Geography” আর “The Power of Geography” দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছিল, আর এই নতুন বইটাও সেই ধারারই; শুধু এবার পৃথিবীর গণ্ডির বাইরে, মহাকাশ নিয়ে ভাবনা।
বইয়ের আসল কথাটা একদম সোজা—এটা বলছে, পাহাড়-নদী-সমুদ্র যেমন মানব ইতিহাস ঘুরিয়ে দিয়েছে, সামনে মহাকাশও তাই করবে। মার্শাল দেখান, মহাকাশের নিজস্ব ভূগোল আছে—নিম্ন কক্ষপথের ধ্বংসাবশেষ, খনিজে ভরা চাঁদ, মহাকর্ষীয় করিডোর, কৌশলগত রাখালপথ সব মিলিয়ে, এখন নতুন এক শক্তির লড়াই শুরু হয়েছে।
তিনি বেশ কিছু বিষয়ে ফোকাস করেছেন:
- **নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতা:** যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এখন ৮০টারও বেশি দেশ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে, আর কেউ এখন মহাকাশকে “সবার সম্পদ” বলে ভাবছে না।
- **প্রযুক্তি ও অর্থনীতি:** মহাকাশে খনিজ নেওয়ার ব্যপার, স্যাটেলাইট দিয়ে নজরদারি, অর্থনৈতিক গুরুত্ব – এসব নিয়ে বিশ্লেষণ।
- **যুদ্ধ ও সামরিকীকরণ:** মার্শাল একটা কাল্পনিক মহাকাশযুদ্ধের দৃশ্য তুলে ধরেছেন যেখানে বড় তিন দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
- **আন্তর্জাতিক আইন:** আজকের বেশিরভাগ মহাকাশ সংক্রান্ত আইন সেকেলে, একেবারে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে ঠিক মেলে না।
- **চাঁদের প্রত্যাবর্তন:** মানুষ আবার চাঁদে যাচ্ছে, কিন্তু এবার স্থায়ী থাকার জন্য। এবারও কি সবার ভালোর জন্য হবে, নাকি নতুন দ্বন্দ্ব? মার্শাল সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বইটা ইতিহাস দিয়ে শুরু—কেন মানুষ প্রথম চাঁদে যাবার চেষ্টা করেছিল, এরপর আস্তে আস্তে ভবিষ্যতের দিকে এগোয়। শেষ দিকে লেখক বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জাতীয় স্বার্থের দিকে ফিরে যান। সমালোচকরা বলেন, বইটা খুব গভীর তাত্ত্বিক আলোচনা করে না; বরং, যারা মহাকাশ রাজনীতি (astropolitics) নিয়ে নতুন পড়বে, তাদের জন্য উপযুক্ত। সিনটেকটিক আলোচনার বদলে সহজ গদ্যে লেখার জন্য প্রশংসা পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে, “দ্য ফিউচার অব জিওগ্রাফি”—এটা বেশ ঝড় তুলেছে। Daily Express এটাকে বলেছে “জানি-জানো, আশাব্যঞ্জক, এবং সবসময় আকর্ষণীয়।” অথচ কিছু পাঠকের মতে, মার্শালের পুরোনো বইয়ের তুলনায় এইখানে বেশ অনুমাননির্ভর আলোচনা হয়েছে, মাঝেমাঝে মনে হয় ভূরাজনীতি নয়, মহাকাশ অভিযানের ইতিহাস পড়ছি।
সব মিলে, বইটা একটা স্পষ্ট বার্তা দেয়—আগামী পঞ্চাশ বছরে মহাকাশের ঘটনাগুলো দুনিয়ার ক্ষমতা আর রাজনীতির অবস্থান আমূল পাল্টাবে। এটা বোঝা এখনই জরুরি।

إرسال تعليق