![]() |
| যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও |
যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও
লেখক : ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
প্রকাশনী : হুদহুদ প্রকাশন
বিষয় : আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
লেখক : ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
প্রকাশনী : হুদহুদ প্রকাশন
বিষয় : আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
আরো পড়ুন-
যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও
লেখক পরিচিতি
ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী—সমকালীন আরব দুনিয়ার একজন পরিচিত ইসলামী চিন্তাবিদ, বক্তা আর লেখক। ১৯৭০ সালের ১৬ জুলাই তাঁর জন্ম। তিনি কোনো সাধারণ পরিবার থেকে আসেননি; খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর বংশধর হওয়ার গৌরব তাঁর রয়েছে। মাত্র পঞ্চাশেই তিনি আরব বিশ্বে বড় বক্তা আর লেখক হিসেবে নিজের জায়গা করে নেন। তাঁর কথা আর লেখাগুলো শুধু আরবেই না, পশ্চিমেও আলোচনার ঝড় তুলেছে।
ছোটবেলা কাটিয়েছেন দাম্মামে। প্রথম পড়াশোনা সেখানেই, এরপর সৌদি আরবের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরেছেন। শেষমেশ রিয়াদের বাদশাহ সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি। তাঁর শিক্ষা আর জীবনের পেছনে রয়েছেন অনেক বড় হাদিস বিশেষজ্ঞ আর ফকীহরা। পরিচিত নাম শায়খ আবদুল আজিজ ইবনে বায (রহ.); তাঁর সান্নিধ্যেই প্রায় পনেরো-ষোলো বছর ড. আরিফীর শিক্ষা।
ড. আরিফীর চিন্তা আর কাজের মূল কথা একটাই—মানুষ যেন আল্লাহকে ভালোবাসে এবং সঠিক পথে চলে। তিনি বলেন, ইসলাম নামাজ-রোজা নিয়ে ছোটখাট কিছু না; বরং এটা পুরো জীবন চালানোর একমাত্র পথ। তাঁর লেখাগুলো আবেগ-মিশ্রিত, যুক্তিগর্ভ এবং সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে ঠেকে।
বইয়ের পরিচিতি ও বিষয়বস্তু
“যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও”—এই বইটা মূলত আত্মশুদ্ধি আর আত্মিক অনুপ্রেরণার এক দারুণ উদাহরণ। বাংলায় সেটা এনেছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আর ছাপিয়েছে হুদহুদ প্রকাশনী। বইটির মূল কথা—একজন মুমিন কেমন করে জীবনের প্রতিটি কাজ, চিন্তা আর সিদ্ধান্তে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই বড় করে দেখে। না চাইলে গুনাহ কিংবা অন্যায় থেকে নিজেরে কিভাবে দূরে রাখবে?
লেখক এখানে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন, কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো পাপ ছেড়ে দেয়, তার জন্য আলাদা প্রতিদান আর সম্মান ঠিক অপেক্ষা করছে। এর প্রমাণ দিতে তিনি কুরআনের আয়াত, হাদিসের কথা আর সাহাবা ও তাবেয়ীনের জীবনের গল্প তুলে এনেছেন। একঘেয়ে আলোচনা নেই—বিনিময়ে গল্প, দৃষ্টান্ত আর বাস্তব অনুভূতির ছোঁয়া দিয়ে তিনি মন ছুঁয়ে গেছেন। তাইতো শুধু পড়ে জ্ঞান নিতে হবে, এমনটা না; বরং হৃদয়ও নাড়া খায়।
লেখকের অন্যান্য রচনার সাপেক্ষে এই বই
এই বইটা ড. আরিফীর বড় রচনাধারার অংশ। তাঁর অজস্র বইয়ের মধ্যে আছে—“আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে”, “মৃত্যুর বিছানায়”, “রামাদান—আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করুন”, “সুখময় জীবনের সন্ধানে”, “পরকাল”, “মহা প্রলয়”—আরও অনেক কিছু। এসব লেখায় বারবার আসে মৃত্যুর পরে কী হবে, তাওবা, আত্মশুদ্ধি আর আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা। “যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও” এই ধারাবাহিকতায় আরও এক জরুরি সংযোজন। আল্লাহর ভীতি ও প্রেম—দুটোই একসঙ্গে জাগাতে চেয়েছেন লেখক।
কেন এই বই গুরুত্বপূর্ণ
আজকের দিনে, যখন চারপাশ মুখর বাইরের দুনিয়া, প্রযুক্তি আর নিত্য ব্যস্ততা, তখন এই বই একজন মুসলিমকে তার মূল উদ্দেশ্য—আল্লাহর সন্তুষ্টি—সেটা মনে করিয়ে দেয়। বইটা আসলে তিনভাবে কাজ করে—
১. আত্মজিজ্ঞাসায় পাঠককে তাড়িত করে; নিজের কাজ, অভিপ্রায় আর পছন্দ নিয়ে ভাবায়।
২. আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা দেয়—কুরআন আর হাদিসের কোটিশত কথা আর উদাহরণ দিয়ে।
৩. ব্যবহারিক পথে পথ দেখায়—কীভাবে নিজের প্রতিদিনের জীবনটা গুনাহের থেকে দূরে রেখে সত্যিকার অর্থে আল্লাহমুখী হওয়া যায়, সেটা বুঝিয়ে দেয়।
প্রকাশনা তথ্য
লেখক: ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
অনুবাদক: মাওলানা মাহমুদুল হাসান
প্রকাশনী: হুদহুদ প্রকাশন
বিষয়: আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
উপসংহার
“যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও”—এই বই পড়ে আপনি শুধু তাত্ত্বিক কোনো কিছু জানবেন, ব্যাপারটা তা নয়। বরং নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবেন। ড. আরিফীর লেখার টান এত মনকাড়া, এত আবেগ আর বাস্তবতায় মেশানো যে, বইটা বাংলাভাষী পাঠকেরা আগ্রহভরে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা আত্মশুদ্ধি আর আত্মিক উন্নতির খোঁজে আছেন, তাদের জন্য এই বইটা সত্যিই ভালো এক সঙ্গী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন