নজরের হেফাজত : সফলতার হাতিয়ার - ড. শাইখ মাহমুদ মিসরি | nojorer hefajot sofolotar ...

নজরের হেফাজত

নজরের হেফাজত : সফলতার হাতিয়ার
লেখক : ড. শাইখ মাহমুদ মিসরি
প্রকাশনী : মুহাম্মদ পাবলিকেশন
বিষয় : আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা

আরো পরুন-

নজরের হেফাজত: সফলতার হাতিয়ার
লেখক: ড. শাইখ মাহমুদ মিসরি  
অনুবাদক: আল-আমিন ফেরদৌস  
প্রকাশনী: মুহাম্মদ পাবলিকেশন  
বিষয়: আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা (আত্ম-নিয়ন্ত্রণমূলক)  
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬, পেপারব্যাক

বইয়ের মূলভাব
বইটা খুব সরাসরিভাবেই বলে—নিজের দৃষ্টি সংযত রাখা মানে নিজের আত্মা ও নৈতিকতা রক্ষার একটা বড় হাতিয়ার। ড. শাইখ মাহমুদ মিসরি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন মুমিন নারী-পুরুষের আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া কিংবা নিজের চরিত্র পূতপবিত্র রাখতে আসলে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এখানে ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটা তীক্ষ্ণ উক্তিও আছে, “অসংযত দৃষ্টিই হচ্ছেযৌন লালসার প্রথম ধাপ।” সেই হিসেবে, দৃষ্টিকে কন্ট্রোল করা মানে নিজের চরিত্রও পাহারা দেওয়া।

বইটা আধুনিক প্রজন্মের জন্যও বেশ মোক্ষম। এখনকার দুনিয়াতে ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট আর তথাকথিত মুক্তচিন্তার নামে আসলে অশ্লীলতাই ছড়িয়ে যাচ্ছে। লেখক একদম স্পষ্ট করে বলেছেন, এসবের হাত ধরে তরুণরা নিজেদের সহজেই পাপের দিকে ঠেলে দেয়। কোথা থেকে এই অধঃপতন? লেখকের কথা—সবচেয়ে বড় কারণ অসম্ভব অসাবধানী দৃষ্টি।

বইয়ের গঠন ও আলোচ্য বিষয়
বইটাতে লেখক সরাসরি কয়েকটা মূল প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছেনঃ

- দৃষ্টি ঠিক কোন সীমা পর্যন্ত অবাধ, আর কোথায় সেটি হারাম
- কখন এবং কীভাবে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ শুরু করতে হবে
- আসলে কী কারণে মানুষ অসংযত হয়ে পড়ে, তার প্রতিকার কী
- দৃষ্টি সংযত রাখলে কোন পুরস্কার বা কল্যাণ লাভ হয়
- আর দৃষ্টি বশ মানলে এর বিপরীত ফল কী হতে পারে—দুনিয়া আর আখিরাতে

এসব প্রশ্নের উত্তর তিনি কুরআন-হাদিস থেকে ধরে ধরে বুঝিয়েছেন, যাতে পাঠক খুব স্পষ্টভাবে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিটা পায়।

পাঠক-প্রতিক্রিয়া
গুডরিডস-এর এক পাঠক বইটিকে নিয়মিত পড়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন। তার কথা, “নজরের হেফাজত” শব্দটা সাধারণ মনে হলেও বিষয়টা অনেক গভীর এবং বইটা এক বসাতেই শেষ করে ফেলার মতো, আবার যখন-তখন খুলে পড়ার মতোও। তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলেছেন—শুধু সরাসরি খারাপ কিছু দেখাই না, এমন ভাবলেই চলবে না। রোজকার সাধারণ কনটেন্টও ধীরে ধীরে মানুষকে ভুল পথে নিতে পারে। এখানে ইসলামের দৃষ্টিকোণ বেশ পরিষ্কার এবং সেইভাবে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব বারবার এসেছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
৯৬ পৃষ্ঠার ছোট্ট এই বইটা সংক্ষিপ্ত হলেও খুব গভীর। আত্মশুদ্ধি আর নৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য আজকের দিনে এমন বই ভীষণ দরকার। যেভাবে প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট আমাদের প্রতিদিন লোভ আর চাহিদার মধ্যে ফেলে, সেখানে দৃষ্টি সংযম কেবল একটা ধর্মীয় নির্দেশনা না—এটা মানসিক শুদ্ধিতেও জরুরি। মুহাম্মদ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত এই বইটা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের জন্য একেবারে ঠিকঠাক। যারা নিজেরা ভালো থাকতে বা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবন গুছাতে চান, তাদের জন্য বইটা যথেষ্ট উপযোগী।

এই বইয়ের অনুবাদ করেছেন আল-আমিন ফেরদৌস। এখন অনলাইন ইসলামিক বুকশপগুলোতে সহজেই পাওয়া যায় পেপারব্যাক কভারে।

Post a Comment

أحدث أقدم