![]() |
| মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী |
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
লেখক : সৈয়দ আবুল মকসুদ
বিষয় : ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব
প্রকাশনী : আগামী প্রকাশনী
আরো পড়ুন -
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ - ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬) উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য নেতা। তিনি শুধু ইসলামী চিন্তাবিদই না, ছিলেন কৃষকের নেতা আর গরিব-দুস্থ মানুষের আশ্রয়স্থল। মানুষ তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলেই জানে—কারণ, গোটা জীবন নিপীড়িতদের জন্য লড়াইটা তিনি ছাড়েননি।
জন্ম ও পরিবার
ভাসানীর জন্ম সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। বাবা শরাফত আলী খান, মা মজিরননেসা বিবি। ছোটবেলায়-ই মা-বাবা দুজনকেই হারান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি। শুরুতে মাদ্রাসায় পড়াশোনা, এরপর দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ার সুযোগ পান। এখান থেকেই তাঁর চিন্তার জগতে পরিবর্তন আসে।
রাজনীতিতে হাতেখড়ি
ভাসানীর রাজনৈতিক চেতনাটা তৈরি হয় খিলাফত আর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে। তারপর আসামে গিয়ে কৃষক আর সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ে মাঠে নেমে পড়েন।
১৯৪৯ সালে গড়লেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনিই দলের প্রথম সভাপতি। পরে দলের নাম বদলে হয় আওয়ামী লীগ—দেশের রাজনীতির বড় প্লাটফর্ম।
স্বাধীনতার স্বপ্ন আর সংগ্রাম
ভাসানী কেবল নেতা ছিলেন না, তিনি পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের মুখপাত্র। পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বারবার রুখে দাঁড়িয়েছেন। অনেক ইতিহাসবিদ তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথপ্রদর্শকও বলেন।
ঝড়-ঝাপটার গল্প
খিলাফত আন্দোলন হোক, কৃষক মিছিল, ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান—ভাসানীর নাম থাকবেই। এমনকি ১৯৭৬-এর ফারাক্কা লং মার্চেও তিনি সামনে ছিলেন। ভাষা আন্দোলনেও তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
“লাল মওলানা”—দারিদ্র্যপ্রেমী নেতা
ভাসানী বরাবরে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন। দরিদ্র সমাজের প্রতি তাঁর টান, প্রতিবাদী স্বভাব—এসব কারণেই অনেকে তাঁকে “লাল মওলানা” নামে ডাকতো।
ন্যাপের যাত্রা
আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ১৯৫৭ সালে তিনি জাতীয় আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ গঠন করেন। এই দলটা একটা বড় বাঁক নিয়েছিল, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে বামপন্থী রাজনীতিতে।
ব্যক্তিত্ব আর আদর্শ
ভাসানী ছিলেন সহজ-সরল জীবনযাত্রার মানুষ। সাধারণ লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, টুপিতেই তাঁর পরিচয়। গ্রামের মানুষের সাথে দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে তিনি দমে যাননি।
মৃত্যু ও প্রভাব
ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মারা যান। তাঁর কবর সন্তোষ, টাঙ্গাইলে। আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব টিকে আছে, মানুষ তাঁকে মনে রেখেছে।
সংক্ষেপে ভাসানীর অবদান
- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
- কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের দৃঢ় নেতা
- স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি গঠন
- ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব
ভাসানী মানেই চাপা স্বরে নির্যাতিতের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ। সে কারণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন—“মজলুম জননেতা”, “লাল মওলানা”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন