![]() |
| যে গল্পে ঈমান জাগায় |
বইটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই...
বইয়ের নাম : যে গল্প ঈমান জাগায়
লেখক : মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী
বিষয় : ঈমান ও আক্বিদা বিষয়ক শিক্ষণীয় কাহিনি
বইয়ের নাম : যে গল্প ঈমান জাগায়
লেখক : মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী
বিষয় : ঈমান ও আক্বিদা বিষয়ক শিক্ষণীয় কাহিনি
প্রকাশনা : মাকতাবাতুল ইলম
বইটির মোট পৃষ্ঠা : ৬৩
বইটির পিডিএফ সাইজ : 8.4 MB
বইটির মোট পৃষ্ঠা : ৬৩
বইটির পিডিএফ সাইজ : 8.4 MB
আরো পড়ুন -
“যে গল্প ঈমান জাগায়”—বই পরিচিতি
মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দীর লেখা “যে গল্প ঈমান জাগায়” একটা ছোট অথচ গভীর ইসলামি গল্পের বই, প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল ইলম। মাত্র ৬৩ পৃষ্ঠার এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই ঈমান জাগানোর উদ্দেশ্যে লেখা, যেন পাঠকের ভেতরে ঈমানের স্পার্ক উঁকি দেয়।
লেখক পরিচিতি
নকশবন্দী উত্তর পাকিস্তানের একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও সুফি—১৯৫৩ সালে জন্ম, জীবনের শুরুর দিকে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ঝংয়ে "মাহদুল ফাকির আল ইসলামী" নামে প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। খুব সহজভাবে বললে, নকশবন্দী নিজের পেশা ছেড়ে চার দশকের কাছাকাছি বয়সে পুরোপুরি দ্বীনের পথে পা রাখেন। তখন থেকেই তিনি হয়েছেন একজন হাফেজে কোরআন, দক্ষ আলেম আর নকশবন্দী তরিকার শায়খ। তাঁর যাত্রা এতটাই বিশেষ যে, তিনি সার্টিফিকেটের চেয়ে আসল ইলমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাংলা ভাষায় বইটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা আবদুল্লাহ খান, যিনি নকশবন্দীর আরও অনেক বই বাংলাতে এনেছেন।
বইয়ের বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য
এই বইটা বেশিরভাগই নকশবন্দীর বিভিন্ন বয়ান ও মজলিসে বলা সত্যিকারের ঘটনাগুলোর সংকলন। মূল ফোকাস—পাঠকের সামনে এমন কাহিনি তুলে ধরা যেটা ঈমানী চেতনা জাগিয়ে তোলে। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাওয়াক্কুল আর সাহাবা-তাবেয়িনদের জীবনের শিক্ষার রেখা টেনে দেওয়া।
যেমন, বইয়ে আছে হযরত উমর ফারুকের খিলাফতকালের একটা কাহিনি—দুজন মুসলমান বন্দী, কাফেররা চিন্তা করে এই সাহসী মানুষদের ধর্ম বদলানোই উপযুক্ত। বন্দীরা জানিয়ে দেয়, বাদশাহের ক্ষমতা তাদের শুধু দুনিয়ার জীবন পর্যন্ত—ধর্মে নয়। এই ধরনের গল্প, বুকের গভীরে ঈমানের শক্তি আর আল্লাহভীতি এনে দেয়।
বইটি সিরিজের অংশ
“যে গল্প ঈমান জাগায়” আসলে নকশবন্দীর বড় গল্প সিরিজের একটা বই। সিরিজের অন্য বইগুলো—“যে গল্প ঈমান বাড়ায়”, “যে গল্প জীবন সাজায়”, “যে গল্প হৃদয় জাগায়”, “আল্লাহওয়ালাদের একগুচ্ছ গল্প”, “আল্লাহওয়ালাদের হৃদয়ছোঁয়া গল্প”—সবগুলোই একই ধারার, সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয়স্পর্শী গল্প দিয়ে ঈমানী শিক্ষা দেয়। সাধারণ থেকে দ্বীনদার, সবাই পড়তে পারে।
আরো আছে লেখকের বিখ্যাত “তাজা ঈমানের ৫০০ গল্প”—একই সিরিজের বড় সংস্করণ। “খুতুবাতে যুলফিকার” নামে তাঁর বয়ানের ৩২ খণ্ডের বিশাল সংকলনও রয়েছে, যেটা ইসলামি অর্থনীতি, ব্যবসা, আক্বিদা, পরকাল, ফিকহ—সব জ্ঞান একসাথে রেখেছে।
বইয়ের শৈলী ও গুরুত্ব
নকশবন্দীর লিখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—জটিল ইসলামি মতাদর্শ তিনি বলে যান সহজ ভাষায়, গল্পের মধ্যে। তাঁর বক্তৃতাগুলো লিখিত আকারে এনে বইগুলোর ভাষা প্রাঞ্জল, আবেগঘন আর প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পড়তে পড়তেই মনে হয়, যেন গল্পের ভেতর ঢুকে পড়ছ।
এই বইটা সংক্ষিপ্ত, তাই যারা তাড়াতাড়ি বা ফাঁকে-ফাঁকে পড়তে চায়, তাদের জন্য ভালো। প্রতিটি গল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাইলে মাঝখানে রেখে আবার পড়তে ফিরে আসা যায়।
মোট কথা, “যে গল্প ঈমান জাগায়” শুধু গল্পের বই নয়—আধ্যাত্মিক দলিল, যেটা পাঠকের ভেতরে ঈমানের জাগরণ ঘটায়। নকশবন্দীর নিজের জীবন আর জ্ঞানের অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখা এই বই বাংলাভাষী ইসলামি পাঠকদের কাছে সত্যিই মূল্যবান।

إرسال تعليق