জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম : ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ)

জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম
জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম

জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (১,২,৩ খণ্ড)
লেখক : ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহঃ)
প্রকাশনী : পথিক প্রকাশন
বিষয় : আল হাদিস

আরো পড়ুন -

ইসলামের ইতিহাসে ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বলির নামটা আলাদা করে উজ্জ্বল। মুহাদ্দিস, ফকীহ, গবেষক—সবকিছুতে তিনি ছিলেন একেবারে অনন্য।

তাঁর পুরো নামটা একটু দীর্ঘ—আবু আল-ফারাজ জাইনুদ্দীন আবদুর রহমান ইবন আহমদ ইবন রজব আল-হাম্বলি। জন্ম ৭৩৬ হিজরিতে, বাগদাদ শহরে। মৃত্যুটাও নাটকীয় নয়, খানিকটা নীরবেই ৭৯৫ হিজরিতে দামেস্কে চলে গেলেন।

শৈশব থেকেই তাঁর পরিবারে চলত জ্ঞানচর্চার চর্চা। বাবা, আত্মীয়-স্বজন সবাই ছিলেন আলেম-ফকীহদের ঘরানার। এই পরিবেশেই তাঁর হাতেখড়ি—হাদিস, ফিকহ, তাফসির, আরবি ভাষা, এমনকি আকিদাও শেখেন। শুধু বাগদাদেই ছিলেন না, জ্ঞান পিপাসা টেনে নিয়ে যায় দামেস্ক, মক্কা আর আরও অনেক শহরে।

তাঁর সময়টায় আজকের মতো ডিগ্রি, সার্টিফিকেট এসবের চল ছিল না। সে যুগের আলেমরা যেমন প্রথাগত পড়াশোনা করতেন, ঠিক তাই করেছিলেন ইবনু রজব। কিন্তু দেখুন, সময়ের সঙ্গে তিনিও একজন নামকরা শিক্ষক আর লেখক হয়ে উঠলেন।

কিছু বই তো ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে—‘জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম’, ‘লাতায়িফুল মা'আরিফ’, ‘ফাতহুল বারী’, আর ‘আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলা’। নামগুলো শুনলেই বোঝা যায়, এগুলো মামুলি বই নয়।

এবার আসি গল্পে। শত বছর পার হয়ে গেছে ঠিকই, তবে কিছু মানুষের নাম এমন জ্বলজ্বল করে, যেন একরাশ তারা পড়ে আছে রাতের আকাশে। ইমাম ইবনু রজব ঠিক তেমনই একজন। বাগদাদের এক আলেম পরিবারে জন্মেছিলেন, এবং ছোট থেকেই বই-কিতাবে, আলেমদের আলোয় বড় হয়েছেন। যেহেতু তাঁর আগ্রহ গাঢ় ছিল, খেলাধুলার চেয়ে বেশি টান ছিল স্পষ্ট শব্দ, জ্ঞানের পথে। বাবা-মাসহ সবাই পাশে ছিল। বয়স খুবই কম—তবু ঝলসে উঠতে শুরু করলেন মেধায়।

জ্ঞান নিতে সীমানা তাঁর জন্য কোনো বাধা ছিল না। কখনো বাগদাদ, কখনো দামেস্ক, কখনো বা মক্কা; যেখানে আলো, সেখানেই ছুটেছেন। শোনেন, জানেন, গভীরে ভাবেন—তারপর চেষ্টা করেন মানুষের উপকারে সে জ্ঞান কাজে লাগাতে।

ধীরে ধীরে প্রতিপত্তি বাড়ে। মুহাদ্দিস, ফকীহ—দুইভাবেই বিখ্যাত। তাঁর ক্লাস ঘিরে থাকত ছাত্র, আর মানুষও। কেউ শুধু বোঝার জন্য নয়, বরং ভালো মানুষ হবার শিক্ষা নিতে যেত। তাঁর সরল বিশ্বাস—জ্ঞান তখনই মহত্ত্ব পায়, যখন তা মানুষের জীবন পাল্টাতে পারে।

একবার ছাত্র জিজ্ঞেস করল, “হুজুর, প্রকৃত সফলতা কাকে বলে?” ইবনু রজব সরাসরি বললেন, “আল্লাহর জন্য জ্ঞান শেখো, সেই অনুযায়ী চলো, মানুষের উপকার করো—সফলতা এমনিতেই আসবে।”

তাঁর লেখা ‘জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম’ এখনও মানুষ পড়ে, বারবার। শুধু হাদিস নয়, জীবনদর্শনও পাওয়া যায় এই বইয়ে। প্রজ্ঞা, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা—সবই ধরা আছে পাতায় পাতায়।

বয়সের শেষে তিনি চিরঘুমে চলে গেলেন দামেস্কে। কিন্তু তাঁর লেখা, তাঁর চিন্তাধারা এখনও টিকে আছে বইয়ের পাতায়, মানুষের মনে। প্রতি প্রজন্ম তাঁর থেকে কিছু না কিছু শিখছে।

ইমাম ইবনু রজবের জীবনটা আমাদের বুঝিয়ে দেয়—যে জ্ঞানের আসল সৌন্দর্য বা মহত্ত্ব, সেটা কিন্তু মানুষকে বিনয়ী ও আলোকিত করে, পাশে দাঁড়াতে শেখায়। এই গল্পটা আপনি চাইলে বইয়ের রিভিউ, ফেসবুক, কিংবা ব্লগ পোস্ট যেখানেই লেখেন, ঠিক মানিয়ে যাবে।

জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (১ ম খন্ড) জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (২ ম খন্ড) জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (৩ ম খন্ড)

Post a Comment

أحدث أقدم